মাত্র ১৭ বছরের এক কিশোরের হাতে ধরা পড়ল বাংলাদেশের ঘু’ষ-দু’র্নী’তি’র আসল চিত্র!**
মায়ের মৃ’ত্যু’র পর পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার ঘুষ চাওয়া হয়েছিল পরিবারকে। নিজের পাসপোর্ট করতে গিয়েও একই তেতো অভিজ্ঞতা হয় ময়মনসিংহের ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদের। এই ক্ষোভ থেকেই সে বসে যায় ল্যাপটপ নিয়ে, আর মাত্র দুই ঘণ্টায় বানিয়ে ফেলে একটি ওয়েবসাইটের কাঠামো— যার নাম দেয় **‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site)**।
উদ্দেশ্য একটাই, সরকারি অফিসে অফিসে ছড়িয়ে থাকা ঘুষের চিত্রটা সবার সামনে তুলে ধরা।
ফলাফল? চালুর মাত্র ৯ দিনেই সাইটটিতে জমা পড়েছে **৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ**, যেখানে দাবি করা ঘুষের মোট অঙ্ক দাঁড়িয়েছে **৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকা!**
শাহেদের ভাষায়, “আম্মুর পেনশনের টাকার ফাইল আটকে রেখে লাখ টাকা ঘু’’ষ চাওয়া হচ্ছিল। এই ক্ষো’’ভ থেকেই ওয়েবসাইটটি বানাই।”
ভারতের একটি অনুরূপ উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বন্ধু সাইফ কবিরের সহায়তায় মাত্র ১০ হাজার টাকা খরচে দাঁড় করানো হয় পুরো প্ল্যাটফর্মটি। এখন চার সদস্যের একটি মডারেশন টিমও আছে তাদের, যারা প্রতিটি অভিযোগ যাচাই করে দেখেন।
শাহেদের বাবা শরীফুল ইসলাম নিজেও এখনো লড়ছেন— স্ত্রীর প্রাপ্য ১০ লাখ টাকার মধ্যে বাকি অংশ পেতে তাকে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
তরুণ এই উদ্যোক্তার লক্ষ্য স্পষ্ট: “সরকারি সেবায় ঘু’ষে’’র মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই, যেন সাধারণ মানুষ কোনো অন্যায় বা’’ধা ছাড়াই তাঁদের প্রাপ্য সেবা পেতে পারেন।”
পুলিশও বিষয়টির গুরুত্ব দিয়ে বলেছে, অনিয়মের প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে, এমন উদ্যোগ যদি সরকারও গ্রহণ করে, তাহলে এটি হতে পারে স্বচ্ছতার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।
একটি ১৭ বছরের ছেলের ক্ষোভ থেকে জন্ম নেওয়া উদ্যোগ আজ হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের কণ্ঠস্বর।