এখন আমি আর জা’মি’ন চাই না।
আমি জা’মি’নের আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।
ট্রাইব্যুনালে কথাগুলো বলতে গিয়ে যেন জীবনের সবচেয়ে কঠিন শূন্যতার কথাই তুলে ধরলেন দীপু মনি।
তিনি বলেন, “৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে তাঁর কাছে থাকতে পারিনি। এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। আমি আর কার কাছে যাব? আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।”
এরপর নিজের স্বামী তৌফিক নেওয়াজের দীর্ঘ অসুস্থতার কথা তুলে ধরে দীপু মনি বলেন, তাঁর স্বামী প্রায় সাত বছর শ’য্যা’’শা’য়ী ছিলেন। এমনকি বা’ক’শ’ক্তি’’ও হা’রি’য়ে’ছি’লে’’ন। কোনো কথা বললে চোখের প’ল’ক ফেলে উত্তর দিতেন।
দীপু মনি জানান, পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্ব পালন করার সময়ও তিনি শ’য্যা’শা’’য়ী স্বামীর যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাড়ি ছেড়ে তাঁকে প্রায় দুই বছর অ’জ্ঞা’’ত স্থানে আশ্রিত অবস্থায় থাকতে হয়েছে। সেই সময়ে তিনিও স্বামীর পাশে থেকে আগের মতো যত্ন নিতে পারেননি।
তার ভাষায়, “এ জীবন তিনি মেনে নিতে পা’রে’ন’নি।”
গত ১৮ আগস্ট রাতে মারা যান দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ।
আর সেই শোকের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে নিজের জামিনের আবেদন প্র’ত্যা’হা’রে’’র কথা জানালেন দীপু মনি।
যে মানুষটির কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য হয়তো একসময় বাসায় ফেরার তাড়া ছিল, আজ সেই মানুষটিই নেই।
কখনো কখনো একটি ঘর থাকে, কিন্তু সেখানে আর ফেরার মতো কেউ থাকে না।
আহ জীবন!
৩৯ বছরের সঙ্গীর চলে যাওয়া যে কতটা গভীর শূন্যতা তৈরি করতে পারে, দীপু মনির কথাগুলো যেন তারই এক মর্মস্পর্শী প্রকাশ।