কুমিল্লায় বিয়ের পরের দিন মেয়েটি তার বাবা মাকে জানালো বাসর রাতে তার স্বামী.. see more
কুমিল্লায় ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। পরিবারের অমতে নয়, বর-কনে দুজনের সম্মতি ও সামাজিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল শুভ বিবাহ। কিন্তু বিয়ের পরদিনই আনন্দ ও উৎসবে মুখরিত একটি পরিবারে নেমে এল বিষাদের ছায়া।
বাসর ঘরের রেশ কাটতে না কাটতেই বাবার বাড়িতে ফিরে কনের কান্নাকাটি ও মারাত্মক এক সত্য প্রকাশের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল কুমিল্লা জেলার একটি গ্রামে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নবদম্পতি।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে কনেকে স্বসম্মানে বরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সারারাত বাসর ঘরে অতিবাহিত করার পর পরদিন সকালে মেয়েটি মোবাইল ফোনে তার মা-বাবাকে কান্নাকাটি করে দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। খবর পেয়ে মেয়ের পরিবারের স্বজনেরা এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন।
বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তরুণী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা-মাকে তিনি বাসর রাতের অভিজ্ঞতা এবং স্বামীর বিষয়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, বাসর রাতে তার স্বামী অত্যন্ত অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এবং প্রকাশ পায় যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ও একটি বিশেষ চিকিৎসাধীন জটিলতায় ভুগছেন। এই বিষয়টি বিয়ের আগে বরের পরিবার সম্পূর্ণরূপে গোপন রেখেছিল। শুধু তা-ই নয়, বাসর রাতে কনেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনেরও চেষ্টা চালানো হয় বলে কনে দাবি করেন।
মেয়ের মুখ থেকে সত্য কথা জানার পর হতবাক হয়ে পড়েন তার বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন। কনের মা কান্নাভেজা চোখে জানান, “আমরা বিশ্বাস করে আমাদের মেয়েকে তুলে দিয়েছিলাম। অথচ বিয়ের আগে বরের পারিবারিক ও মানসিক অবস্থার কথা পুরোপুরি গোপন রাখা হয়েছে। বাসর রাতেই আমার মেয়ের জীবন নিয়ে এমন খেলা খেলা হবে—তা আমরা কল্পনাকুলেও ভাবিনি।”
ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয় উৎসুক মানুষ কনের বাড়িতে ভিড় জমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় কান্নায় ভেঙে পড়া কনেকে তার পরিবারের সদস্যরা জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে কনের পরিবারের পক্ষ থেকে বর পক্ষকে ডেকে পাঠানো হলেও বর পক্ষের লোকেরা এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেনি। প্রতারণার অভিযোগে কনের পরিবার স্থানীয়ভাবে বিষয়টি