স্বামীকে শেষবার দেখতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি, অশ্রুসিক্ত বিদায়
স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে এবং তাঁর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাঁর প্যারোল মঞ্জুর করা হয়। মেয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসন এই অনুমতি দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা দীপু মনির স্বামী, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তৌফিক নেওয়াজ, মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলের আবেদন করা হয়। প্রথমে চার দিনের প্যারোল চাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১২ ঘণ্টার প্যারোলের অনুমতি দেওয়া হয়।
পুলিশি পাহারায় কারাগার থেকে বের হন
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে বের করা হয় দীপু মনিকে। পুলিশ পাহারায় তাঁকে ঢাকার কলাবাগানের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে স্বামীর মরদেহ রাখা হয়েছিল।
সেখানে স্বামীর মরদেহ শেষবারের মতো দেখেন তিনি। দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গীকে হারানোর বেদনায় সেই সময়ের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর অশ্রুসিক্ত অবস্থার কথা উঠে এসেছে।
জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ পরে গুলশানের আজাদ মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানে বাদ জোহর তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় বনানী কবরস্থানে।
দীপু মনিও স্বামীর শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন। স্বামীর জানাজা ও দাফন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁকে আবার মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটে তাঁকে কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়।
‘হাতজোড় করে’ কী বলেছিলেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, দীপু মনি স্বামীকে শেষবার দেখতে গিয়ে হাতজোড় করে বিশেষ কোনো বক্তব্য দিয়েছেন। তবে নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রে তাঁর ওই কথাগুলোর হুবহু বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই আবেগঘন কোনো উক্তি তাঁর নামে নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।
নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত বিষয় হলো—স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে দীপু মনি ১২ ঘণ্টার প্যারোল পান, স্বামীর মরদেহ দেখেন, জানাজা ও দাফনে অংশ নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবার কারাগারে ফিরে যান।
স্বামীর সঙ্গে শেষ দেখা নিয়ে জানা গেল আরও কিছু
প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, তৌফিক নেওয়াজ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকাকালীন দীপু মনির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের অনুমতির জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও তা পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এমনকি আদালতে দীপু মনিকে হাজির করার সময় অসুস্থ তৌফিক নেওয়াজকে স্ট্রেচারে করে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে নেওয়া হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত স্বামীর মৃত্যুর পর প্যারোলের মাধ্যমে তাঁকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান দীপু মনি। ১২ ঘণ্টার সেই সুযোগের মধ্যেই তিনি স্বামীর মরদেহ দেখেন, জানাজা ও দাফনে অংশ নেন এবং পরে আবার কারাগারে ফিরে যান।
স্বামীকে শেষ বিদায় জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কারাগারে ফিরে যাওয়ার এই ঘটনাটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।