কত স্বপ্ন নিয়ে একটা মেয়েকে মা-বাবা বড় করে তোলেন! একদিন ভালো ঘরে বিয়ে দেবেন, মেয়েটা সুখে সংসার করবে—এমন স্বপ্নই তো দেখেন প্রতিটি মা-বাবা।
কিন্তু সেই মেয়েটাই যখন পরিবারের অমতে অন্য ধ’র্মে’’র একজন ছেলের সঙ্গে চলে যায়, তখন সেই মা-বাবার বুকের ভেতরটা কতটা ভে’’’ঙে যায়—তা হয়তো বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়।
সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তোষপুরের নবম শ্রেনী পড়ুয়া মাত্র ১৩ বছর বয়সী একটি মুসলিম মেয়েকে নিয়ে এখন এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়েটি সন্দ্বীপের ই’স’ক’’ন সদস্য জয়ন্ত দাসের সঙ্গে চলে গেছেন।
এরপর মেয়েটি একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন। সেখানে তিনি বলেন—
“আমি নিজের ইচ্ছায় চট্টগ্রামে এসেছি। জয়ন্ত আমাকে আনতে চায়নি। বরং আমাকে অনেকবার আসতে নিষেধ করেছে। তারপরও আমি নিজের ইচ্ছায় এসেছি। আমরা বিয়ে করেছি এবং ভালো আছি। আপনারা দয়া করে আমাদের মাঝে বাধা হয়ে আসবেন না।”
মেয়েটির কথাগুলো শুনে একটা বিষয় স্পষ্ট—এটি তার নিজের সিদ্ধান্ত বলেই তিনি দাবি করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সে কি ভবিষ্যৎটা ভেবে দেখেছে?
ভালোবাসার বয়সে অনেক কিছুই সহজ মনে হয়। মনে হয়, দুজন একসঙ্গে থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব সংসার শুরু হলে সামনে আসে পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, ভবিষ্যৎ সন্তান—আরও অনেক কঠিন প্রশ্ন।
একজন মুসলিম মেয়ে এবং একজন হি’’ন্দু ছেলে—দুজনের ধ’’র্ম আলাদা। তাহলে ভবিষ্যতে সংসারে ধ’’র্মী’য় বিষয়গুলো কীভাবে চলবে? সন্তান হলে তাকে কোন ধ’র্মী’’’য় বিশ্বাসে বড় করা হবে? দুই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে থাকবে?
সবচেয়ে ক’ষ্টে’’র বিষয় হলো—একদিকে মেয়েটি হয়তো তার ভালোবাসাকে বেছে নিয়েছে, অন্যদিকে তার মা-বাবা হয়তো মেয়েকে হা’রা’নো’’র কষ্টে ভে’’ঙে পড়েছেন।
মেয়েটা যদি নিজের ইচ্ছায় গিয়ে থাকে, তাহলে তার সিদ্ধান্তের দায়ও তাকেই নিতে হবে।
আজ হয়তো দুজন বলছে—“আমরা ভালো আছি।”
কিন্তু এই ভালো থাকা যেন আগামী দিনেও ভালো থাকে—সেটাই সবচেয়ে বড় কথা।