Dhaka , Saturday, 1 August 2026

যেভাবে গ্রে*প্তার করা হয় ডেভিড ইমনকে।জানা গেলো যে অবাককরা তথ্য…..see more

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:50 pm, Wednesday, 29 July 2026
  • 4983 Time View

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে আসছিল।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ডেভিড ইমন ও রায়হানসহ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। নোয়াখালীতে রায়হানকে গ্রেপ্তারে একটি টিম অভিযান চালিয়েছে। তবে অল্পের জন্য সে পালিয়ে গেছে। তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন গোপন তথ্য ছিল যশোর পুলিশের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম যশোর নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। বুধবার ভোরে কালো রঙের একটি প্রাইভেট কার সন্দেহ হলে তল্লাশি চালায়। গাড়িটি থেকে ইমনকে শনাক্ত করে পুলিশ। তবে ইমনের আলোচিত গোফ কেটে ফেলায় পুলিশের চিনতে বেগ পেতে হয়।

পরে একপর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন তিনি চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। এ সময় গাড়ির ভিতরে থাকা তার তিন সহযোগীকেও আটক করা হয়।

 

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ইমনসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকাল ১০টায় তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে আলোচনায় আসেন ডেভিড ইমন। তিনি সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিতি পান। ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা ডেভিড ইমন অল্প বয়সে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার নাম উঠে আসে।

পুলিশের অপরাধ রেকর্ড অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ডাবল মার্ডার (জোড়া খুন) এবং চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকা চাঁদা দাবির হামলাসহ অন্তত ৭টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির চক্র সচল রাখার পেছনে তার মূল ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

যেভাবে গ্রে*প্তার করা হয় ডেভিড ইমনকে।জানা গেলো যে অবাককরা তথ্য…..see more

Update Time : 04:50 pm, Wednesday, 29 July 2026

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে আসছিল।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ডেভিড ইমন ও রায়হানসহ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। নোয়াখালীতে রায়হানকে গ্রেপ্তারে একটি টিম অভিযান চালিয়েছে। তবে অল্পের জন্য সে পালিয়ে গেছে। তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন গোপন তথ্য ছিল যশোর পুলিশের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম যশোর নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। বুধবার ভোরে কালো রঙের একটি প্রাইভেট কার সন্দেহ হলে তল্লাশি চালায়। গাড়িটি থেকে ইমনকে শনাক্ত করে পুলিশ। তবে ইমনের আলোচিত গোফ কেটে ফেলায় পুলিশের চিনতে বেগ পেতে হয়।

পরে একপর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন তিনি চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। এ সময় গাড়ির ভিতরে থাকা তার তিন সহযোগীকেও আটক করা হয়।

 

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ইমনসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকাল ১০টায় তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে আলোচনায় আসেন ডেভিড ইমন। তিনি সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিতি পান। ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা ডেভিড ইমন অল্প বয়সে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার নাম উঠে আসে।

পুলিশের অপরাধ রেকর্ড অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ডাবল মার্ডার (জোড়া খুন) এবং চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকা চাঁদা দাবির হামলাসহ অন্তত ৭টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির চক্র সচল রাখার পেছনে তার মূল ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।